Home / স্বাস্থ্য টিপস / ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে শরীরে

ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে শরীরে

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের জানাবো ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে শরীরে সে সব কথা ‍নিয়ে। ব্রেস্ট ক্যান্সার, বিশেষভাবে নারীদের জন্য এ যেন এক আতঙ্কের নাম। আর এটি এমন একটি রোগ, যা শরীরিক ও মানসিক দুভাবেই প্রভাবিত করে।ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে শরীরে

ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে শরীরে

অনেকে ভয়ের কারণে বেশ ভেঙে পড়েন। এ কারণে মানসিক পরিবর্তনটাও দেখা দেয় বেশি। আর এ ক্যান্সারের জটিলতাও একটু বেশি দেখা যায়। তবে চিকিৎসা নিলে এটি থেকে পরিত্রাণ মেলে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিলে এর প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে। তাই এমন সমস্যা কারও হয়ে থাকলে চিকিৎসার পরে কি ধরনের পরিবর্তন হতে পারে তার একটি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো।

এ কারণে আজ থাকছে, ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিলে শরীরে যে ধরনের পরিবর্তন আসে—

১. চুল পড়ে যায়
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নেওয়ার পর চুল পড়ে যায়। এটি হয় আসলে কেমোথেরাপি নেওয়ার ফলে কোষে আক্রমণ করে চুলের ক্ষতি করে। তাই চিকিৎসা নেওয়ার সময় আপনার মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, এ বিষয়টি মেনে নেওয়ার বিষয়ে। তবে ভালো খবর হচ্ছে— চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই আবার চুল গজানো শুরুও হয়ে যেতে পারে।

২. হরমোনজনিত সমস্যা
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে বিভিন্ন ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এ সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিকে পরিবর্তন, রাতে বেশি ঘামা, গরমের ঝলকানি অনুভব করা, ওজন বেড়ে যাওয়া, যোনি শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো সবই আপনার হবেই এমন কোনো কথা নেই। তবে এ ধরনের বিষয়ে মানসিকভাবে মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা ভালো।

৩. শরীরের অঙ্গ ফুলে যাওয়া
ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণে অস্ত্রোপচার করা হলে তা আপনাকে লিম্ফেডেমা হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আর এটি হলে স্তনে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে তরল জমা হয়ে ফুলে যেতে পারে। এমনটি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. ওজন বৃদ্ধি
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে অনেক নারীরই ওজন বেড়ে যায়। আর এর ফল হিসেবে রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো স্থূলতাজনিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

আপনার চিকিৎসার প্রভাবের কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়গুলোকে মানসিকভাবে মেনে নেওয়ার মতো প্রস্তুতি রাখার পাশাপাশি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। সেগুলো হচ্ছে—

* ওজন বৃদ্ধি এড়াতে প্রচুর ফল, শাকসবজি এবং বিভিন্ন ধরনের পুরো শস্য খাওয়াসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলতে হবে। চিনি খাওয়া কমিয়ে দিয়ে প্রচুর পানি পান করা এবং শারীরিক ব্যায়ামের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।

* আপনি অতিরিক্ত ঘামতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ নিতে পারেন যেগুলো আপনার মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি কমাতে পারে।

* চুল পড়ে যাওয়া শুরুর আগেই আপনি চুল কেটে নিতে পারেন। এতে আপনার কষ্ট কম হবে। কারণ চুল পড়া শুরু হলে তা অনেক সময় ব্যথা দেয়।

* ত্বকের জ্বালাতন কমাতে আপনি সবসময় ঢোলা জামা পরতে পারেন। এটি আপনার অস্বস্তি অনেকটাই কম বোধ করাবে। এ ছাড়া আইস ব্যাগ বা প্যাড ব্যবহার করলেও অনেকটা আরাম মেলে।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Check Also

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ড্রাগন ফলের জাদুকরী ভূমিকা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ড্রাগন ফলের জাদুকরী ভূমিকা

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *