Home / স্বাস্থ্য টিপস / করোনা প্রতিরোধে ইমিউনিটি বাড়ানোর উপায়

করোনা প্রতিরোধে ইমিউনিটি বাড়ানোর উপায়

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের জানাবো করোনা(Corona) প্রতিরোধে ইমিউনিটি বাড়ানোর উপায় নিয়ে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেক পরিবারে শুরু হয়েছে আতঙ্ক। বয়সভেদে নানাজনের নানা স্বাস্থ্য(Health) সমস্যা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে আরো আন্তরিক হতে হবে। পরিবারে কারো করোনা হলে যেনো তাকে আমরা অবজ্ঞা না করি। ইতোমধ্যে বহু ঘটনায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্তরা কাছের মানুষদের অবহেলার শিকার হচ্ছেন।করোনা প্রতিরোধে ইমিউনিটি বাড়ানোর উপায়

করোনা প্রতিরোধে ইমিউনিটি বাড়ানোর উপায়

মনে রাখতে হবে, করোনা(Corona) পজিটিভ যে কেউ হতে পারেন। তাই বলে তাকে কোনোভাবেই দূরে রাখা উচিত নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। করোনার চিকিৎসায় দু’টি ধারা আছে। একটা বিভিন্ন ধরনের অনুজীব থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং অন্যটি হলো আপনার করণীয়। প্রথমেই বলে নেয়া যাক, ভাইরাস(Virus) থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে দেহে ইমিউনিটি পাওয়ার বা রোগ(Disease) প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কী করণীয়:

কিছু কিছু খাবার(Food) দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমরা জানি, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ও খনিজলবণের সঙ্গে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। ভিটামিনের মধ্যে এ, ডি, ই, সি। আবার খনিজ লবণের মধ্যে ভিটামিন ডি’র সাহায্যকারী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি’র সাহায্যকারী আয়রন প্রয়োজন। তাছাড়া জিংক, সেলেনিয়াম অন্যতম। মনে রাখবেন শুধু সাপ্লিমেন্ট খেলেই চলবে না। সুষম খাবার থেকে গ্রহণ করুন রোগ প্রতিরোধের দাওয়াই।

এতো গেলো সুস্থ ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর খাদ্য ও পুষ্টি(Nutrition) নির্বাচন। শুধু খাদ্য গ্রহণেই আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ, এটা বলা যাবে না। কিছু কিছু অভ্যাস বদলে ফেলতে হবে। যেমন প্রতিদিন দীর্ঘ শ্বাস নেয়া প্র্যাকটিস করা। নাকে লম্বা করে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে বের করুন। একেকবার ৩-৫ মিনিট করে দিনে অন্তত ৩ বার অভ্যাস করুন। কথায় আছে যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দেহের অবস্থার উপর ভিত্তি করে রোগ প্রতিরোধ একেক জনের একেক রকম হয়ে থাকে। পরিবারের সবাই পূর্ণ সুস্থ না-ও থাকতে পারেন। রোগ প্রতিরোধে দেহের শক্তি বৃদ্ধি অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে হবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই। তা-ই ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। এখন সুস্থ আছেন অর্থ এই নয় যে, আগামীতে কোনো অনুজীব দ্বারা আপনি আক্রান্ত হবেন না। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

রোগ প্রতিরোধে করণীয়

১. প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস ফুটানো বিশুদ্ধ পানি(Water) পান করুন। গরমে আরো ২ গ্লাস অতিরিক্ত পানি পান করুন।

২. প্রয়োজন ছাড়া রাত জাগবেন না। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রতিদিন সকালে বিশুদ্ধ বাতাস থেকে বুক ভরে নাকে দম নিন এবং মুখ দিয়ে দম ছেড়ে দিন। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রতিদিন কিছু হালকা ব্যায়াম(Exercise) জরুরি। সারাদিনে অন্তত ১০ মিনিট দেহে সূর্যের সরাসরি আলো লাগানোর চেষ্টা করুন।

৩. যে কোনো কাজ শেষে আঙুলসহ ভালো করে পুরো হাত ধুয়ে নিন। যেমন বাইরে থেকে এসে, কর্মক্ষেত্রে, হাসপাতালে গেলে চেষ্টা করুন কিছুক্ষণ পরপর হাত ধুয়ে নিতে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কম থাকায় তাদের করোনা হওয়ার চেয়ে তাদের মাধ্যমে ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস করান।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার বিশেষ করে ভিটামিন সি জাত ফলের জুস খুবই প্রয়োজন। যেমন: লেবুর রস, কমলার জুস বা কমলা, দেশী মালটা, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি। তাছাড়া সর্বোরোগের প্রতিষেধক কালিজিরা প্রতিদিন অন্তত ৮-১০টা খেয়ে নিন। প্রতিদিন ১ কোষ রসুন(Garlic) খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৫. বাইরে থেকে ঘরে এসে অবশ্যই পোশাক পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে গোসল(Bath) সেরে নিন। জনসমাগমে গেলে পোশাক ধোয়ার সময় হাতে গ্লাভস ব্যবহার করুন। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে অবশ্যই সঠিক উপায়ে মাস্ক ব্যবহার করুন। পরিবহনে উঠে যেখানে সেখানে হাত দেবেন না। যাতায়াত শেষে সঙ্গে সঙ্গে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।

৬. অনেক সময়ই অনলাইনে খাবার অর্ডার করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে চেষ্টা করুন বাইরের রান্না করা, প্রসেসড, বার বি কিউ, মেরিনেটেড খাবার কম খেতে। প্রোটিন ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডিম, মাছ(Fish), মুরগির মাংস, বাদাম, ডালজাতিয় খাবারের পাশাপাশি সবজি(Vegetables) ও ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। যে কোনো ১টা আইটেমের পাশাপাশি সালাদ, লেবু খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিনের খাবারে বাদাম অন্তর্ভূক্ত করুন।

৭. সাধারণ সর্দি-কাশি মানেই করোনা নয়। ভালো করে জেনে বুঝে ব্যবস্থা নিন। অযথা ভয় না পেয়ে প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের সাহায্য নিন।

৮. আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন। বারান্দা বা ছাদে গাছের পাশে যাওয়া, আকাশ দেখা, পরিবারের সবাই হাসি-আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন। হাসি-আনন্দে প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

সচেতনতার সঙ্গে স্বাভাবিক চলাফেরা করুন।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Check Also

প্রক্রিয়াজাত মাংস হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ

প্রক্রিয়াজাত মাংস হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *